মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ- দ্যা সাইলেন্ট কিলার
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ- দ্যা সাইলেন্ট কিলার

ব্যাক্তিগত জীবনঃ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। যিনি বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাইলেন্ট কিলার, মিস্টার ফিনিশার নামেই বহুল প্রচলিত। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এই সিনিয়র ক্রিকেটার ১৯৮৬ সালের ৪ই ফেব্রুয়ারী জন্মগ্রহন করেন। তার জন্মস্থান ময়মনসিংহ জেলায়। তিনি ২০১১ সালের ২৫ই জুন জান্নাতুল কাউসার মিষ্টিকে বিয়ে করেন। ২০১২ সালের ৩ই জুন তিনি পুত্র সন্তানের পিতা হন। তিনি একজন অলরাউন্ডার ব্যাটসম্যান। তিনি কার্যকরী মিডল ব্যাটসম্যান এবং অকেশনাল অফ স্পিন বোলার হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলতেছেন। বাংলাদেশ টেস্ট দলের বর্তমান সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে আছেন তিনি। কোন বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করার গৌরব তার। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করার রেকর্ড তার।

খেলোয়াড়ি জীবনঃ তার একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় শ্রীলংকার বিপক্ষে। সময়টি ছিল ২০০৭ সালের জুলাই মাসে। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য তিনি ডাক পান। ঐ’সিরিজের ৩য় ওডিআইতে তার অভিষেক হয়।এছাড়াও ২০০৭ সালে কেনিয়াতে অনুষ্ঠিত চার জাতি সিরিজে তাকে নেওয়া হয়। ঐ’বছর অনুষ্ঠিত ২০০৭ আইসিসি বিশ্ব টি-২০ কাপে তাকে দলে নেওয়া হয়।তার টেস্ট অভিষেক হয় ২০০৯ সালের ৯ই জুলাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।  আর্নোস ভ্যাল স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১ম টেস্টে তার টেস্ট অভিষেক হয়, এবং তিনি প্রথম ম্যাচেই তার জাত চেনান। তিনি পরপর টিএম ডাউলিন, এফএল রেইফার, সিএকে ওয়ালটন, আরএ অস্টিন ও কেমার রোচকে আউট করে নিজেকে তুলে ধরেন। এতেই তিনি ৩য় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে অভিষেকেই ৫ উইকেট জয়ী খেলোয়াড়ের তালিকায় নিজের নাম লেখান। তার বোলিং এ ভর করেই বাংলাদেশ ঐ টেস্টে জয়লাভ করে। এই সাইলেন্ট কিলার তার শততম ওডিআই ম্যাচ খেলেন ভারতের বিপক্ষে। সময়টি ছিল ২০১৪ সালের ১৫ই জুন। এতে তিনি ১০ বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে এই মর্যাদা লাভ করেন। যদিও বাংলাদেশ ঐ ম্যাচে ৭ উইকেটের লজ্জাজনক ভাবে হেরে যায়।ঐ’ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৬৯ এবং বোলিং গড় ছিল ১৯৮। ৪ই জুন ভারত দলের বাংলাদেশ সফরে অনুশীলন চলাকালীন আঙ্গুলে ব্যাথা পান, এরফলে তিনি ঐ’সিরিজে দল থেকে বাহিরে থাকেন।
ক্রিকেট বিশ্বকাপঃ ২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের জন্য যখন ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হলে তিনিও ঐ দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটি ছিল ৫ই মার্চ, ২০১৫। গ্রুপ পর্বের চতুর্থ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তামিম ইকবালের সাথে ১৩৯ রানের বিশাল জুটি গড়েন। পরবর্তীতে সাকিব, মুশফিকের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটিং পারফরম্যান্সে  ভর করে বাংলাদেশ বিশাল রান তাড়া করে জয়লাভ করে।ঐ’ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়লাভ করে। তার বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সময়টা তখন ৯ই মার্চ, ২০১৫। অ্যাডিলেড অভালে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ৫ম ম্যাচে এই কৃতিত্ব গড়েন। ৭ চার এবং ২ ছক্কায় সাজানো ১০৩ রানের এই পথচলায় তিনি ১৩৮ বল খেলেন। ক্রিস-ওকসের হাতে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন। বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের জুটি ১৪১ রানের, যা তিনি তার ভায়রা মুশফিকের সাথে গড়েন। এছাড়াও এই জুটি একদিনে ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি। ঐ’ম্যাচেই রুবেল হোসেনের অভাবনীয় বোলিং(৪/৫৩) এ বাংলাদেশ ১৫ রানে জয়লাভ করে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছায়। অভাবনীয় ব্যাটিং এর জন্য ঐ’ম্যাচে “ম্যান অফ দ্য ম্যাচ” নির্বাচিত হন। ১৩ই মার্চে গ্রুপ পর্বে দলের শেষ ম্যাচে ১২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এবং টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন। কিন্তু তুমুল উত্তেজনার ঐ’ম্যাচে বাংলাদেশ ৩ উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত হয়।
আন্তর্জাতিক শতকসমূহঃ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৩ রান এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কার্ডিফে ১০২* রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
পরিসংখ্যানঃ সাইলেন্ট কিলার (Mahmudullah Riyad) ৩৯ টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ২০৮৪ রান করেন এবং ৪০ উইকেট শিকার করেন। সেরা বোলিং গড় ৫/৫১। এছাড়া তিনি ১৫৯ টি একদিনের ম্যাচে অংশগ্রহন করে ৩৪৯০ রান করেন এবং ৭০ উইকেট শিকার করেন। সেরা বোলিং গড় ৩/৪। ৭৩ টি টি-২০ ম্যাচে অংশগ্রহন করে ১১৮৫ রান সংগ্রহ করেন, এবং ২৬ উইকেট শিকার করেন। টি-২০ তে সেরা বোলিং গড় ২/১।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ই নয়, তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একজন রত্ন হিসেবেই ভক্তদের মাঝে পরিচিত। তার খেলার ধরন সকলের থেকে আলাদা। জাতীয় দল যখন ব্যর্থ, তখন তিনিই আশার আলো জাগিয়ে তোলেন বাংলাদেশের হয়ে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে